তোফায়েল মাহমুদ (বাহার):
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে জাল সনদে চাকুরী করার দায়ে কামাল হোসেন নামে এক
গ্রন্থাগারিকের বেতন বন্ধ করায় স্কুলে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটসহ প্রধান শিক্ষককে
মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বাধা দিতে আসলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী সহ অন্তত
৯ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। বুধবার উপজেলার কাকৈরতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জানা যায়, ওই বিদ্যালয় থেকে বুধবার রাতে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়ে কক্সবাজার
শিক্ষা সফরে যাওয়ার জন্য সকালে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি সভায় বসেন। এসময় ওই
বিদ্যালয়ে ভূয়া সনদে চাকুরী নেয়ার কারণে বহিষ্কৃত গ্রন্থাগারিক কামাল হোসেন
কিছু বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় ডুকে অফিসের দরজা জানালা ও
আসবাবপত্র ভাংচুর করে করে। বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান, সহকারী শিক্ষক সামছুউদ্দিন সেলিম,
জসিম উদ্দিন, কর্মচারী আইয়ুব আলী, হারুনুর রশিদ, শিক্ষার্থী শুভ. শাওন, যোবায়ের ও
রিপাতসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং
হামলাকারী সবাই পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন,
গ্রন্থাগারিক কামাল হোসেনের নেতৃত্বে কাকৈরতলা গ্রামের মাঈন উদ্দিন, জামাল
হোসেন, শিপনসহ ৪০/৫০ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে অফিসে প্রবেশ করে। এতে বাধা
দিলে তারা আমাকেসহ শিক্ষক কর্মচারী এবং কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বেড়ধক মারধর ও
পিটিয়ে আহত করে। এসময় আমার পকেটে থাকা শিক্ষা সফরের প্রায় ৫৩ হাজার ৫শ
টাকা এবং দুটি মোবাইল নিয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের সভাপতি হুমায়ুন কমীর মজুমদার বলেন, বিদ্যালয়ের আঙ্গীনায় ডুকে
শিক্ষক কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের উপর অতর্কীত হামলা ভাংচুর এবং লুটপাটের ঘটনায়
অত্যান্ত ন্যাক্কার জনক। তিনি অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য
প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।
অভিযুক্ত গ্রন্থাগারিক কামাল হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার
বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, সংবাদ পেয়ে
ঘটনারস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠিয়েছি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply